পাপা ইউনিফর্ম সিয়েরা পাপা ইন্ডিয়া ট্যাঙ্গো আলফা। নিজের নাম যে এভাবেও বলা যায়, তা দেখে বিস্মিত হয়েছিল আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী পুস্পিতা। তার ডাকনাম পুস্পিতার ইংরেজি প্রতিটা অক্ষর ন্যাটো ফোনেটিক অ্যালফাবেটের আদলে উচ্চারণ করলে পুরো নাম দাঁড়ায় এটি। (ন্যাটো ফোনেটিক অ্যালফাবেট প্রচলিত নাম, তবে এর পুরো নাম হলো ‘ইন্টারন্যাশনাল রেডিওটেলিফোনি স্পেলিং অ্যালফাবেট’।) প্রথমবার দুজন অ্যামেচার রেডিও অপারেটরের তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় অ্যামেচার রেডিওতে কথা বলল সে। মোবাইল ছাড়া যে রেডিওর মাধ্যমে কথা বলা যায়, তা তার জানাই ছিল না।
পুস্পিতা এসেছিল সরকারি বিজ্ঞান কলেজের সায়েন্স ক্লাব আয়োজিত অ্যামেচার রেডিও ওয়ার্কশপে। ২২ নভেম্বর, শুক্রবার সকাল থেকে সরকারি বিজ্ঞান কলেজে অনেক শিক্ষার্থী এই ওয়ার্কশপে অংশ নিতে আসে। সকাল ১১টা বাজতে বাজতে অডিটোরিয়ামে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত। তাদের দুই ভাগে ভাগ করে ওয়ার্কশপের প্রথম পর্ব আয়োজিত হয়।
অনুষ্ঠান সূচনা করেন বাংলাদেশি অ্যামেচার রেডিও অপারেটর এম ও বি জিহাদ। ক্লাসিক ও এফএম রেডিওর বাইরেও যে আরেকটা জগৎ আছে, সেই জগতের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। রেডিও ব্যবহার করে বিনামূল্যে বিশ্বের সব জায়গায় যে কথা বলা যায়, তা যেন শিক্ষার্থীদের বিশ্বাসই হচ্ছিল না। অ্যামেচার রেডিও কী, এর সাহায্যে কী করা যায় এবং এটি ব্যবহারের নিয়মকানুনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের ভিডিও দেখানো হয় শিক্ষার্থীদের। এক পর্যায়ে একটা ভিডিওতে দেখা যায়, একজন বাংলাদেশি অ্যামেচার রেডিও অপারেটর সুইজারল্যান্ডের একজন অ্যামেচার রেডিও অপারেটরের সঙ্গে অ্যামেচার রেডিও ব্যবহার করে কথা বলছিলেন।
এরপর মঞ্চে আসেন বাংলাদেশি অ্যামেচার রেডিও অপারেটর সাব্বির আহমেদ। জরুরি মুহূর্তে কীভাবে অ্যামেচার রেডিও জীবন রক্ষাকারী ভূমিকা রাখতে পারে, তার বর্ণনা দেন তিনি। ফেনীর বন্যায় যখন সব মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল হয়ে গিয়েছিল, তখন অ্যামেচার রেডিও নেটওয়ার্ক স্থাপন করার মাধ্যমে কীভাবে রেসকিউ এবং রিলিফ অপারেশনে অ্যামেচার রেডিও অপারেটররা জেলা প্রশাসন, আর্মি, ফায়ার সার্ভিস, স্কাউট, লোকাল ভলান্টিয়ারদের সহযোগিতা করেছেন, সেই গল্প শোনান। সবশেষে জানান, কীভাবে অ্যামেচার রেডিও অপারেটর হওয়া যায়।
এরপর শিক্ষার্থীরা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে মাঠে প্রবেশ করে। সেখানে তারা একটি অ্যামেচার ইউএইচএফ/ভিএইচএফ স্টেশন সেটাপ করা শেখে। পাশাপাশি ন্যাটো ফোনেটিক অ্যালফাবেট ব্যবহার করাও শেখে শিক্ষার্থীরা। ধরুন আপনার নাম নুর, ইংরেজিতে NUR। তাহলে ন্যাটো ফোনেটিক অ্যালফাবেট ব্যবহার করে আপনার নামের উচ্চারণ হবে নভেম্বর ইউনিফর্ম রোমিও। রেডিওতে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এ ফোনেটিক অ্যালফাবেট ব্যবহার করা হয়, কারণ ‘বি’ বা ‘ডি’-এর মতো অক্ষর অনেক সময় রেডিওতে শুনে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। প্র্যাকটিক্যাল সেশন দেখতে দেখতে কয়েকজন শিক্ষার্থী রেডিওতে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করে। তরুণ শিক্ষার্থীদের অ্যামেচার রেডিওতে আরও আগ্রহী করে তুলতে দুজন কন্ট্রোল অপারেটর মডুলেশন টেস্ট হিসেবে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সিমপ্লেক্স রেডিওতে কথা বলার সুযোগ করে দেন। প্রশ্ন-উত্তর পর্বের মাধ্যমে শেষ হয় এই ওয়ার্কশপ।


