রাউজানে বিজয় মেলা নিয়ে বিরোধ, বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০


 রাউজানে উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারীরা মিছিল বের করলে তাতে বাধা দেয় আরেক পক্ষ। আজ বিকেলে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনেসংগৃহীত


চট্টগ্রামের রাউজানে বিজয় মেলা নিয়ে বিরোধে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারীদের মধে৵ এ সংঘর্ষ হয়েছে।

উভয় পক্ষের আহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক রহিম উদ্দিন, সদস্য শাকিল হোসেন, মুহাম্মদ রিপন, মুহাম্মদ আলমগীর, মুহাম্মদ রবি, পৌর যুবদল সদস্য আবদুস সালাম, মুহাম্মদ রাকিবসহ ১০ জন। আহত ব্যক্তিদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও উভয় পক্ষের দলীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাউজান সরকারি কলেজ মাঠে মাসব্যাপী বিজয় মেলা উদ্‌যাপনের আয়োজন চলছে, যা ৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরোধের কারণে সেটি উদ্বোধন করা যায়নি। এর মধ্যে আজ বিকেলে উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে বিজয় মেলা উদ্‌যাপনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দেয় গোলাম আকবর খন্দকারের পক্ষের নেতা-কর্মীরা। এতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, জেলা যুবদলের সভাপতি হাসান জসিম ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি জি এম মোরশেদ প্রমুখ। বিক্ষোভ মিছিলের খবর পেয়ে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারীরা জড়ো হয়ে অপর পক্ষকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বেধে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করলে উভয় পক্ষের লোকজন সরে যান।

হামলায় আহত হওয়া গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণ মিছিল ও সমাবেশ করতে জড়ো হয়েছিলেন। এ সময় ২৫টি থেকে ৩০টি মোটরসাইকেলে করে কয়েক শ লোক এসে তাঁদের সমাবেশ পণ্ড করে দেন। হামলায় আহত করেছেন তাঁদের পক্ষের ছয়–সাতজনকে।

গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী জেলা যুবদলের সহসভাপতি মুহাম্মদ সাবের সুলতান প্রথম আলাকে বলেন, ‘ওই সমাবেশ ও মিছিলে আমরা দেখেছি স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের একাধিক দোসর বিএনপি সেজে এসেছে। এ কারণে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। হামলায় তাঁর দলের চার থেকে পাঁচজন আহত হয়েছেন।’

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মুহাম্মদ রাসেল আজ সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, বিজয় মেলা উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে রাউজানে বিএনপির দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে আছে। বিকেলে এর জেরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে মারামারি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

Post a Comment

ইতি.কম We would like to take a moment to sincerely thank you for your continued support and coverage. Your involvement in our [project/event/campaign] has been invaluable, and we truly appreciate the effort you put into bringing attention to our work.