Posts

অভিনয়ে হ্যাঁ, নাকি না? তাহসান কী বলেন

প্রথমবারের মতো হলিউডে গানের শুটিং করেছেন তাহসান খান। এ মাসে বড় তিনটি কনসার্টের পাশাপাশি ১২টি নতুন গান নিয়ে ব্যস্ত। এ ছাড়া ৮ বছর পর টেলিভিশনের কোনো অনু

 

বাংলা গানকে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার দর্শকদের কাছে কীভাবে তুলে ধরা যায়, তা নিয়েই ইদানীং বেশি ভাবছেন তাহসান। শুধু তা–ই নয়, বিদেশি দর্শকদের কথা চিন্তা করেই এখন থেকে সব গান করছেন এই গায়ক। সেই ভাবনার জের ধরেই দুই মাস আগে হলিউডে ‘ভুলে যাব’ শিরোনামে একটি গানের শুটিং করেছেন। সেই গান ইউটিউবে মুক্তিও পেয়েছে।

তাহসান বলেন, ‘আমরা বাংলা নিয়ে একটা গণ্ডির মধ্যেই রয়ে গেছি। আমরা বিশাল গানের দর্শক ধরতে পারছি না। লাতিন আমেরিকা, কোরিয়াসহ অনেক দেশ তাদের গানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরেছে। শিল্পী হিসেবে আমরাও চাইলে বাংলা গানকে ছড়িয়ে দিতে পারি। সেই দায়বদ্ধতা নিয়েই এখন কাজ করছি।


তাহসানের নতুন ভাবনা

বাংলা গানকে বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার এ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তাহসান বলেন, ‘বিদেশ থেকে কোনো শিল্পী দেশে এলে বিশেষভাবে দর্শকদের আলাদা নজর কাড়েন। কারণ, উপমহাদেশে তাঁদের গানগুলো তাঁরা ছড়িয়ে দিতে পেরেছেন। আগামী ৫–৭ বছর পর আমরাও যেন সেই জায়গায় যেতে পারি, সেই চেষ্টাই করছি। আমাদের গানগুলো এখন থেকে আলাদা করে উপস্থাপন করতে হবে, সুর–ছন্দে পরিবর্তন আনতে হবে, মিউজিক ভিডিও বিশ্বমানের করতে হবে। বিশ্বসংগীতের অঙ্গন কী ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম কী ধরনের গান শুনছে, সেই ভাবনা থাকতে হবে।’ এ পরিকল্পনায় তাহসানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন ‘নয়া দামান’, ‘ঝুমকা’খ্যাত বাংলাদেশি-মার্কিন সংগীতশিল্পী মুজা। আরও আছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সংগীতশিল্পী সঞ্জয়। তাঁদের যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে তাহসান বলেন, ‘মুজাসহ আরও যাঁরা বিদেশের প্রযোজক, ডিরেক্টর আমাদের সঙ্গে রয়েছেন, তাঁরা দর্শকদের পালস বুঝতে পারেন। যে কারণে সবাই মিলেই চেষ্টা করছি।

একসঙ্গে ১২ গান
তিন বছর ধরে নিয়মিত গান করাও হচ্ছিল না। সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এবার বছরজুড়ে গান করবেন। মৌলিক ১২টি গান নিয়ে আসছেন তাহসান খান। সেই গান নিয়েই এখন ব্যস্ততা। ‘অপরিচিত ছায়াছবি’ শিরোনামে একটি গান আগামী মাসে মুক্তি পাবে। পরে প্রতি মাসে একটি গান প্রকাশ করবেন। গানগুলো বাংলা ও ইংরেজিতে রেকর্ড করা হবে। বড় বাজেটের এই গানগুলোর মিউজিক ভিডিওর শুটিং হবে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশে।

তবে গান কম করলেও সব প্রজন্মের দর্শকের কাছেই এখনো জনপ্রিয় তাহসান। স্টেজে উঠেই সেটা বুঝতে পারেন। আগের মতোই এখনো নিয়মিত কনসার্টের ডাক পড়ে। এ মাসে উত্তরা ক্লাবসহ বড় তিনটি কনসার্টে অংশ নেবেন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে জেন–জি কী ধরনের গান পছন্দ করে, সেটাও বোঝার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘“রঙে রঙে হব রঙিন” তুমুল আলোচিত হয়েছে। এই প্রজন্মের দর্শকেরা কিন্তু গানটি শুনছে। আবার আমার আগের গাওয়া অনেক গান এখনো দর্শক শুনতে চায়। জেন–জি যারা, তারা মেলোডির পাশাপাশি কী ধরনের অফ বিট গান পছন্দ করে, সেটা বুঝতে পারি। আমি আসলে ভাগ্যবান যে সব প্রজন্মের দর্শক আমার গান শুনছে।’

তাহসান খান। ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে
তাহসান খান। ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে

হঠাৎ শাকিবের নিমন্ত্রণে
তাহসান সংগীতাঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত, অন্যদিকে ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খান। দুই অঙ্গনের দুই তারকা কাজ দিয়ে একে অন্যকে চিনলেও তাঁদের তেমন কোনো দেখাসাক্ষাৎ হয়নি এত দিন। এমনকি তেমন কোনো পরিচয়ও ছিল না। সেই দূরত্ব এবার ঘুচছে। সম্প্রতি শাকিব খানেরই একটি আয়োজনে শাকিবের ডাকে হাজির হয়েছিলেন। শাকিবের কোনো সিনেমায় গান করছেন কি না, জানতে চাইলে তাহসান বলেন, ‘সিনেমায় শাকিব খান প্রথম সারির নায়ক। তাঁর সিনেমায় আমার কোনো গান থাকলে দুজনের ভক্তদের কাছে সেই গান পৌঁছাবে, উপমহাদেশের মধ্যে আলাদা প্রচার পাবে। এবার যেহেতু বন্ধুত্বটা হয়েছে, আশা করছি, শিগগিরই সিনেমার গানও হবে।’

তাহসান খান। ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে
তাহসান খান। ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে

অভিনয়ে হ্যাঁ, নাকি না
গানের পাশাপাশি নাটক ও সিনেমায় অভিনয় দিয়েও প্রশংসিত হয়েছেন তাহসান। দুই বছর হলো সেই অভিনয়েও নেই। অভিনয় থেকে দূরে কেন? ‘আমি এই সময়ে পুরোটা গান নিয়ে ব্যস্ত থাকব। আমার কাছে সবচেয়ে কঠিন মনে হয় মৌলিক গান দর্শকদের কাছে তুলে ধরা। যে কারণে দেখবেন, অনেকেই আগের পরিচিত গানগুলোই গাইছেন। কেউ গান রিমেক করছেন। সেদিকে না ঝুঁকে আমি দর্শক বুঝে নতুন গান করছি। নতুন গান হিট করানো অনেক কঠিন। এ কারণে অনেক জায়গায় মনোযোগ দিতে চাই না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় গেম শো “ফ্যামিলি ফিউড”-এর স্বত্ব কিনেছে বিঞ্জ, সেই শো দিয়ে দীর্ঘ ৮ বছর পর কোনো অনুষ্ঠানে ফিরছি।’


Post a Comment

ইতি.কম We would like to take a moment to sincerely thank you for your continued support and coverage. Your involvement in our [project/event/campaign] has been invaluable, and we truly appreciate the effort you put into bringing attention to our work.