বেঁচে থাকতে দেশের এক ইঞ্চি মাটিও ফ্যাসিবাদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হবে না: হাসনাত আবদুল্লাহ

 

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। আজ শনিবার কুমিল্লার লাকসাম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠেছবি: প্রথম আলো

যেকোনো সময় ফ্যাসিবাদ আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। এ জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। জাতীয় পার্টি হচ্ছে জাতীয় বেইমান। তারা বলছে, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি নাকি দেশের ৫০ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে। এই চব্বিশ–পরবর্তী বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে তারা এত বড় কথা বলার দুঃসাহস পায় কীভাবে? আমি স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসররা বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিক না।’

আজ শনিবার বিকেল ৫টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও জুলাই বিপ্লবের বীর সেনানীদের লাকসাম-মনোহরগঞ্জে আগমন উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ এসব কথা বলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘যাঁরা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চাচ্ছেন, আপনারা আপস করতে পারেন রাজনৈতিক স্বার্থে; কিন্তু আমরা যাঁরা রাজনৈতিক হিসেবের ঊর্ধ্বে রয়েছি, আমরা যাঁরা এই দেশের টানে রাস্তায় নেমে এসেছিলাম, আমাদের রক্তের ওপর দিয়ে আপনাদের ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসন করতে হবে। আমরা বেঁচে থাকতে এই বাংলাদেশের এক ইঞ্চি মাটিও ফ্যাসিবাদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হবে না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে। যত ষড়যন্ত্র, যত বাধাই আসুক না কেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ থেকে চব্বিশ–পরবর্তী বাংলাদেশে মানুষের ভোটের অধিকার, গণতন্ত্র, বাক্‌স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কেউ যদি মাঠে না-ও থাকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মাঠে থাকবে।’

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মাদার অব টেরর শেখ হাসিনাকে তাঁর যথাযথ জায়গা ভারতে পাঠিয়েছে। কিন্তু এই মাদার অব টেরর ভারত বসেও দেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। যারা ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দল রয়েছেন, আপনারা মনে রাখবেন, এই গণ–অভ্যুত্থান অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ বিষয়। এটির ক্রেডিট আমরা অবশ্যই যাঁর যাঁর জায়গা থেকে নেব। তবে ক্রেডিট নিতে গিয়ে আমরা যেন ভুলে না যাই, কোন উদ্দেশ্যে এই গণ–অভ্যুত্থান ঘটেছে, সেই উদ্দেশ্যের সঙ্গে আমরা যেন কখনো আপস না করি। আমরা দেখতে পাচ্ছি, অনেক রাজনৈতিক দল আন্দোলনের ক্রেডিট নেওয়ায় ব্যস্ত হয়ে রয়েছে, কিন্তু কোন উদ্দেশ্যে আমরা আন্দোলন করলাম, সেই হিসাব তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।’

রাজনৈতিক দলগুলোকে উদ্দেশ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে যদি কোনো দল আঁতাত করতে চায়, তাদেরও আওয়ামী লীগের পরিণতি ভোগ করতে হবে। তাই সবাইকে দালালি পরিহার করে দেশের জন্য কাজ করতে হবে।’
কুমিল্লাকে নিয়ে হাসনাত বলেন, ‘কুমিল্লার ছেলেরা মার খেয়ে বসে থাকতে জানে না। আন্দোলনের সময় কুমিল্লার ছাত্রদের সাহসিকতা আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। তাই কুমিল্লাবাসীর প্রত্যাশা কুমিল্লা নামেই বিভাগ ঘোষণা করতে হবে।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুমিল্লা জেলার আহ্বায়ক মোহাম্মদ সাকিব হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব আরিফ সোহেল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য রিফাত রশিদ, তরিকুল ইসলাম, নুসরাত তাবাসসুম, সিনথিয়া জাহিন আয়েশা, কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ বদিউল আলম, লাকসাম উপজেলা জামায়াতের আমির হাফেজ জহিরুল ইসলাম, লাকসাম পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বেলালুর রহমান, লাকসাম পৌরসভা জামায়াতের আমির জয়নাল আবেদিন পাটোয়ারী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সদস্য সেলিম মাহমুদ প্রমুখ। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য ও সমন্বয়কদের হাতে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

Post a Comment

ইতি.কম We would like to take a moment to sincerely thank you for your continued support and coverage. Your involvement in our [project/event/campaign] has been invaluable, and we truly appreciate the effort you put into bringing attention to our work.